পরশুরামে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে চলে যাওয়া তিনটি গরু আটকে পড়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন এক অসহায় নারী। পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস হারিয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন বিধবা নুরের নেছা (৫৫)।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মির্জানগর ইউনিয়নের আশ্রাফপুর গ্রামের বাসিন্দা নুরের নেছা প্রায় ২০ বছর আগে এক দুর্ঘটনায় স্বামী আবু তাহেরকে হারান। বড় ছেলে ফজলুল করিম ছাড়া তার বাকি দুই ছেলে ও এক মেয়ে প্রতিবন্ধী। দুটি গাভী লালন-পালনের মাধ্যমে চলতো তার পরিবার। গত ২২ এপ্রিল সকাল ১১টার দিকে বাড়ির পাশে আশ্রাফপুর বড় কবরস্থান সংলগ্ন এলাকায় তার প্রতিবন্ধী ছেলে নজরুল ইসলাম (৩১) গরুগুলোকে ঘাস খাওয়াতে নিয়ে যায়। এ সময় কবরস্থানের পাশে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকায় কিছু স্থানে কাঁটাতারের বেড়া কাটা থাকায় গরুগুলো সেখান দিয়ে ভারতে ঢুকে পড়ে।
এদিকে গরুগুলো খুঁজে না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন নুরের নেছা ও তার পরিবার। টানা ৮-১০ দিন খোঁজাখুঁজির পরও কোনো সন্ধান না পেয়ে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। পরে ভারতের লোক মারফত জানতে পারেন, গরুগুলো ভারতের রাজনগর থানায় রয়েছে।
নুরের নেছা বলেন, গরুগুলোই আমার পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস। আমি কোনোভাবে আমার গরুগুলো ফেরত চাই। আমার পরিবারে কোনো পুরুষ সদস্য বা অভিভাবক নেই। থানা বা কোথায় যেতে হয় তাও আমি জানি না। স্থানীয় গ্রামবাসী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে বিষয়টি বিজিবির সুবার বাজার ক্যাম্প কমান্ডারকে জানিয়েছি। তিনটি গরুর মধ্যে দুটি গর্ভবতী গাভী ও একটি বাছুর রয়েছে বলে জানান তিনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভারতের বিলোনিয়ার একজন সাংবাদিক জানান, রাজনগর থানায় তিনটি গরু আটকের বিষয়টি তিনি নিশ্চিত হয়েছেন।
এ ঘটনায় পরশুরাম মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন ভুক্তভোগী নুরের নেছা। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশ্রাফুল ইসলাম বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
গরুগুলো ফেরত আনতে বিজিবির পক্ষ থেকে বিএসএফের সংশ্লিষ্ট ক্যাম্পে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে জানিয়ে বিজিবির ফেনী ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এমএম জিল্লুর রহমান জানান, বিএসএফের উচ্চ পর্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে গরুগুলো ফেরত আনার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ১১ এপ্রিল একই ইউনিয়নের মধুগ্রাম সীমান্তের ৪৬ নম্বর পিলার সংলগ্ন এলাকা থেকে দরিদ্র কৃষক মীর হোসেন মিনুর একটি গরু ধরে নিয়ে যায় বিএসএফ। পরে বিজিবির পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলেও গরুটি আর ফেরত দেওয়া হয়নি।
