সন্ধ্যা নামলেই পরশুরামের দক্ষিণ চৌমুড়ীর ডাকবাংলা মোড়ে সন্ধ্যা নামলেই অপরাধের আখড়ায় পরিণত হয়ে উঠে। নানা ধরনের অপরাধীরা জড়ো হয় সেখানে। গত বেশকিছু দিন ধরে এলাকটিতে একের পর এক অপরাধের ঘটনা ঘটছে। গত ১৫ দিনে মাদক সেবনের সময় ব্যবসায়ী আটক, আরেক ব্যবসায়ীকে মারধর, ছিনতাইয়ের প্রস্তুতিকালে দুইজনকে আটকসহ বেশ কিছু অপরাধের ঘটনা ঘটার তথ্য বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পরশুরাম বাজারের মধ্যে কম জনবহুল এলাকা ডাকবাংলা মোড় ও অনন্তপুর সড়ক। সন্ধ্যা নামলেই এখানে জমে উঠে নানা বয়সের অপরাধীদের আড্ডা। অনন্তপুর সড়ক সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন মজুমদারের খামারবাড়ির দক্ষিণে ও মারকাজুল উলুম মাদ্রাসার পূর্ব পাশের পরিত্যক্ত ঘর অপরাধীদের নিরাপদ আশ্রয় হয়ে ওঠে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সন্ধ্যা নামলে মদ জুয়া ও তাস নিয়ে সেখানে আসর বসায় বড় একটি চক্র।
অভিযোগ রয়েছে, শাহ আলমের ফার্নিচার দোকান ও সুমনের সেলুনে নিয়মিত মাদক সেবীদের আড্ডা বসে। ছয়ঘরিয়া সড়কের একটি বস্তি থেকে মাদক সরবরাহ করার অভিযোগও রয়েছে। উত্তর ও দক্ষিণ কোলাপাড়ার সরকার দলের রাজনীতির সাথে জড়িত কয়েকজনের ছত্রছায়ায় এখানে নানা অপরাধ সংগঠিত হয়।
গত ২৯ এপ্রিল ডাকবাংলা মোড় থেকে ছিনতাইয়ের প্রস্তুতিকালে পৌরসভার বাউরখুমা গ্রামের রুহুল আমিনের ছেলে এমরান হোসেন বিজয় (২১) এবং মরণ নাথের ছেলে নিশান নাথকে (২১) আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন স্থানীয় জনতা। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি চাইনিজ কুড়াল উদ্ধার করা হয়। ২৭ এপ্রিল সন্ধ্যায় অনন্তপুর সড়ক থেকে গাঁজা সেবনের সময় পল্টু নামে এক ব্যবসায়ীকে আটক করে স্থানীয় জনতা।
একই দিন বিকেলে মোতালেব নামে এক ব্যবসায়ীকে মারধর করা হয় ডাকবাংলা মোড়ে। তিনি থানায় অভিযোগ দেওয়ার পরে পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে। পরশুরাম মডেল থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক মোস্তফা কামাল দাবি করেন, পরবর্তীতে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি সাড়া দেননি।
২০২৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর পরশুরাম মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ছুটির পর চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রী হুমায়রা বিনতে হাসেমকে (১০) পূর্ব পাশের গার্লস স্কুলের গলি থেকে মাস্ক পড়া এক কিশোর এসে ওই ছাত্রীর মুখ চেপে ধরে উত্তর দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। গার্লস স্কুলের সপ্তম বা অষ্টম শ্রেণীতে পড়ুয়া আরেকটি মেয়ে ছুটে এসে ওই ছেলেটিকে লাঠি দিয়ে আঘাত করে হুমায়রাকে উদ্ধার করে।
হাসপাতাল রোডের পাশে ছয়ঘড়িয়া সড়কে প্রকাশ্যে জন্মদিনে ট্রিট না দেওয়ায় এক বন্ধুকে বৈদ্যুতিক খুঁটির সাথে হাত বেঁধে ডিম নিক্ষেপ করা হয়। এসময় আশপােেশর স্কুল ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ অভিযুক্তদের মুচলেকা আদায় করে অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেয়।
পরশুরাম বাজারের ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন বলেন, এসবের বিরুদ্ধে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনকে কঠোর অবস্থান নিতে হবে।
এছাড়া পরশুরাম বাজারের বেশ কয়েকটি রুটে আড্ডা জমায় কিশোর গ্যাং, বখাটে ও নানা অপরাধীরা। এর মধ্যে পরশুরাম সরকারি কলেজ রোড, গরু বাজার সড়ক, পরশুরাম সরকারি পাইলট স্কুলের উত্তর পাশের গলি, গার্লস স্কুল সড়ক, হাসপাতাল রোডের পাশে ছয়ঘরিয়া সড়ক, ঘাটঘর ব্রীজ থেকে ফকির মমতাজ সড়ক, উপজেলার পশ্চিমে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক সড়ক, পরশুরাম উত্তর বাজার ব্রীজের আশপাশসহ নিরিবিলি জায়গাগুলোতে বখাটে ও কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত বেড়েছে। গত এক বছরের পরশুরাম বাজারের বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, অধিকাংশ অপরাধের ঘটনা উল্লেখিত স্থানগুলোতে ঘটেছে।
এসব স্থানে কিশোররা দলবদ্ধ হয়ে ঘোরাফেরা করে প্রভাব বিস্তার করতে গিয়ে ইভটিজিং, মারামারি, চাঁদাবাজি, মাদক সেবন, অনলাইন জুয়াখেলা নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে।
সংবাদকর্মী সাইফুল ইসলাম বলেন, মোবাইল ফোনের সহজলভ্যতা ও নিয়ন্ত্রণহীন ব্যবহার কিশোরদের বিপথে নিয়ে যাচ্ছে। অনেকে অনলাইন গেমের আড়ালে জুয়ায় আসক্ত হয়ে পড়ছে, যা তাদের মানসিক ও আর্থিক ক্ষতির কারণ হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। কিশোর গ্যাংয়ের প্রভাবে স্কুল ফাঁকি দেওয়া, খারাপ সঙ্গ গ্রহণসহ নানা নেতিবাচক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে।
পরশুরাম বাজারের ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন বলেন, এসবের বিরুদ্ধে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনকে কঠোর অবস্থান নিতে হবে।
পরশুরাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: আশ্রাফুল ইসলাম জানান, যেকোন অপরাধের বিরুদ্ধে পুলিশের দৃঢ় অবস্থান রয়েছে। যেসব স্থানে অপরাধ সংঘটিত হয় পুলিশ সেসব স্থানে আলাদা নজর রাখছে।
