ফেনীর পরশুরামে মুহুরী নদীর বেড়িবাঁধের খাদের পানিতে ডুবে সাঈদ বিন আমীন (১০) নামে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। তার স্বপ্ন ছিল কোরআনের হাফেজ হওয়া। কোরআন শরীফের ১৩ পারা হেফজ সম্পন্ন করেছিল সাঈদ। কিন্তু হাফেজ হওয়ার আগেই দুনিয়া থেকে বিদায় নিতে হলো তাকে।

সোমবার (১ জুন) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার চিথলিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম অলকা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সাঈদ ওই গ্রামের মুফতি আমিনুল ইসলাম আমীনের বড় ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদুল আজহার পরদিন গাজীপুর থেকে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে পশ্চিম অলকায় গ্রামের বাড়িতে আসেন মুফতি আমীন। পরিবারের সঙ্গে কোরবানি শেষে সোমবার দুপুরে বাড়ির পাশে মুহুরী নদীর বেড়িবাঁধ এলাকায় মাছ ধরতে যায় সাঈদ। একপর্যায়ে বাঁধের পাশে বন্যায় সৃষ্ট খাদের পানিতে পড়ে ডুবে যায় সে।

সাঈদের বাবা আমিনুল ইসলাম জানান, দীর্ঘ সময় ছেলেকে খুঁজে না পেয়ে বেড়িবাঁধের পাশে গিয়ে খাদের পানিতে তাকে দেখতে পান। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় সাঈদকে উদ্ধার করে পরশুরাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “ঢাকার গাজীপুরের একটি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করত সাঈদ। সে ১৩ পারা হেফজ সম্পন্ন করেছিল। তার এবং আমাদের স্বপ্ন ছিল সে কোরআনের হাফেজ হবে। কিন্তু আল্লাহ তাকে নিয়ে গেছেন।”

পরশুরাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. ইফতেখার হাসান ভূঁইয়া জানান, হাসপাতালে আনার আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে।

পরশুরাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশ্রাফুল ইসলাম পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।