১২ইং ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বি.এন.পি একক ভাবে ২০৯ টি আসন পেয়ে একক সংখ্যাগরিষ্টতা লাভ করেছে। সরকার গঠন করেছে জোটগত ভাবে। কেবিনেট মিনেষ্টার ২৫ জন ও প্রতিমন্ত্রি করেছে ২৪ জন এই নিয়ে ৪৯ সদস্য মন্ত্রি সভায় ও ৭ জন উপদেষ্টা নিয়োগ করা হইয়াছে মন্ত্রির মর্যদায়। বি.এন.পি সরকার গঠনে একটি চমক দেখিয়েছে একটু বাকা পথে গিয়ে। বাকা পথ টা একটু বুজিয়ে না বলেলই নয়। অথ্যৎ গেলো ইনটেরিম সরকারের নির্রাপত্তা উপদেষ্টা ডঃ খলিলুর রহমান কে পররাষ্ট্র মন্ত্রনালায়ের দায়িত্ব দেয়া হয়। ডঃ ইউনুছের নির্রাপত্তা উপদেষ্টা থাকার সময় ডঃ খলিলের বিরুদ্ধে বি এন পি আন্দোলন করেছিলো, সেই খলিল সাহেব কে বি এন পি কেবিনেটে গুরুত্বপূন্য দায়িত্ব দিয়েছে। এই বিষয়ে মোটামোটি একটা বির্তক সরকারের সাথে লেগেই আছে। একদিন আগে ইনটেরিম উপদেষ্টা থেকে পরের দিন পররাষ্ট্র মন্ত্রি হওয়া কে মানুষ বাকা চোখেই দেখেছে সে যাক দেশে প্রায় আটারো বছর পর জনগনের ৫৫-৬০ ভাগ কার্য্যকর অংশ গ্রহনে একটা সরকার গঠিত হয়েছে, এখন মানুষ এই সরকার থেকে সু-শাসন আসা করছে। আশার বিষয় হচ্ছে এই সরকারের প্রধানমন্ত্রি হয়েছেন তারেক জিয়া তিনি শারীরিক ভাবে বেশ কর্মক্ষম এবং বি এন পির সর্বজন গ্রহন যোগ্য নেত্রিত্ব, তারেক জিয়ার কথা, কাজ, পোষাক, পরিমিতি বোধ মানুষের মনে বিশ্বাস জন্মাবার কারণ হিসাবে দোলা দিচ্ছে। তারেক জিয়া চেষ্ঠা করছেন রাজনীতিতে একটি নুতনত্ব আনার, তিনি প্রধানমন্ত্রি হিসাবে প্রটোকোল নিচ্ছেন না। জনতার উপর অগাধ বিশ্বাস দেখাচ্ছেন। পোষাকে ও অনেক টা সাদা সিদে। অনেকে বলছেন তিনি তারেক জিয়া থেকে তারেক রহমান হওয়ার চেষ্টা করছেন, প্রিয় পাঠক সাভাবিক ভাবে জিজ্ঞাস করতে পারেন তারেক জিয়া আর তারেক রহমানের মধ্যে পার্থক্য কী? পার্থক্য হলো শহিদ জিয়া ও খালেদা জিরার পুত্র হিসাবে তিনি উত্তরধিকার সূত্রে প্রধানমন্ত্রি ও বি.এন.পির চেয়ারম্যান হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রি হয়ে তিনি নিজেকে ভিন্ন মাত্রায় জাতীর সামনে উপস্থাপন করে নিজেকে নুতন এক ব্যাক্তিত্ব হিসাবে, তারেক রহমান, হিসাবে আবিরভুত হতে যাচ্ছেন। যে তারেক রহমান কে মানুষ চিনবে সু-শাসনের প্রবর্তক, উদার ধর্মপ্রান, সৎ, মেহনীতি, পরমত সহিষনু ও জন বান্ধব হিসাবে, তিনি সেই যেষ্টা করছেন বলে মনে হচ্ছে, কিন্তু বাদ সাদছে বিরোধি দল। তারা কথায় কথায় রাস্তায় নেমে অরাজনৈতিক বক্তব্য দিচ্ছেন রাজপথে। যেমন ধরুন আমেরিকা ইরানের ধর্মীয় নেতা খমিনে কে হত্যা করেছে। জামাত ও তাহাদের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবির স্লোগান দিয়েছে খমিনির উপর হামলা কেন? খুনি তারেক জবাব চাই। সাবেক উপদেষ্টা রিজোয়ানা হাসান এক সাক্ষাতকারে নারীর ক্ষমতায়ন বিরোধী রাজনৈতিক গোষ্ঠির উথান যেন না হয় তার জন্য তিনি এবং তার সরকার কাজ করেছেন এবং ভবিষ্যৎ ও করবেন। এই বক্তব্য কে জামাত ভিন্ন খাতে নিয়ে ইলেকসান ইঞ্জিয়ারিং কথা বলে রাজপথে স্লোগান দিয়েছেন “চোর, চোর, চোর ভোট চোর, তারেক জিয়া ভোট চোর” রাজনৈতিক সচেতন মহল জামাতের এই রাজনীতী কে ভূল বলে আখায়িত করছেন আবার এই ও বলছেন অধিকাংশ মাদ্রাসায় পড়ুয়া জামাতের নেতারা নারীর ক্ষমতা বিরোধী এবং রিজোয়ানের বক্তব্য না বুঝেই তারা ছেচামেছি করছেন। অতিসম্পত্তি বুগুড়া ও শেরপুরের জাতীয় উপ নির্বাচন হয়েছে, তাতে পরাজিত হওয়ায় জামাত এ উপনির্বাচন কে মাগুরার সাথে তুলনা করে রাজপথ উপ্তত্ত করার চেষ্টা করেছেন। বেশ কিছু আইনজীবী, অধ্যাপক, ডাক্তারের সাথে আমার আলাপ হয়। তারা সবাই একমত এই সরকার থেকে দেশের মানুষ সু-শাসন চায়। সরকার সঠিক পথে এগোচ্ছে। তবে ভালো হতো প্রেকটিসিং অর্থনীতি বিধ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভার্ণর নিয়োগ করলে। মানুষ জন চায় তারেক জিয়া দেশে সকল সাংবিধানিক, প্রসাশনিক ও স্থানিয় সরকারের প্রসাশক ও জেলা পরিষদের প্রসাশক সহ যে কোন বড় পদে নিয়োগ দানের পূর্বে সংসদীয় শুনানি করা হোক, তখন সরকারের জবাবদিহিতা অনেক বাড়বে। অধ্যাপক ডঃ আবু আহাম্মদ, ডঃ জগলুল হয়দার, ডঃ নুরউল আমিন বেপারি উনাদের সাথে আলোচনায় উনাদের মত ও সরকার কে নুন্যতম সময় দেওয়া উচিত কেননা দীর্ঘ আঠারো বছর দেশে তেমন সু-শাসন ছিলো না। দেশের পরিস্থতি সেক্টর ওয়াইজ ইসস্থীতি শীলতা আনার সময় টা দিতে হবে। আমি অধ্যপক সাহেব দের সাথে অমত করি না, কিন্তু ০৩/১২/২০২৬ ইং তারিখে কুষ্টিয়া একজন পীর কে কুপিয়ে হত্যা ও তার আখড়া মাজার বিরোধী যে সকল লোক মর্ব করে এই ঘটনা ঘটিয়াছে, তা সু-শাসন বিরোধী ও গনতন্ত্র বিনাশী এক জঙ্গি তদপরতা যা স্বাধীনতা ও জুলাই চেতনা বিরোধী। বিরোধী দল কে বুঝতে হবে যখন তখন রাস্তায় নেমে মানুষের অসুবিধা সৃষ্টি করা, ভিন্ন মত, পথ ও ভিন্ন ধর্মের অথবা নিজ ধর্মের বিভিন্ন মতের ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধা দেখাতে হবে, মনে রাখতে হবে গনতন্ত্রীক সামাজে মর্ব কে প্রামোট করা বিরোধী দলের কাজ না। বিরোধী দল তাদের বিসাল বিজয় কে দারন করতে না পারার জন্য সামাজে নানার প্রশ্ন দেখা দিচ্ছে। জামাত কে মনে রাখতে হবে তারা দায়িত্ব শীল বিরোধী দল, কোন অবস্থাতেই কোন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, মাঝার, মন্দিরে হামলা হইলে সাথে সাথে জামাতকে এর বিরোধীতা ও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। মর্ব কে প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। ২০২৬ এর জাতীয় নির্বাচনে জামাতের এই বিশাল জয় লাভ কে অনেক এ ভিন্ন ভাবে দেখেন। কেননা ৫৪ বছরের ইতিহাসে একটি মাইলফলক ঘটনা ঘটেছে, আর সেটি হচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৬৯ টি আসন একক ভাবে লাভ করেছে, তাও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। ৫ই আগষ্টের ২০২৪ এরপর এদেশের একটি সামান্য জ্ঞান সম্পন্ন ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করলে সে বলত পরবর্তী সরকার বিএনপি গঠন করবে। বিএনপির সরকার গঠন অনেকটা স্বাভাবিক ঘটনা, যেহেতু দেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ তাই বড় দল হিসাবে বিএনপি ক্ষমতা গ্রহণ করবে, ভূমিধস বিজয় লাভ করবে এটি কম বেশি সবারই জানা ছিল। ১২ই ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠন করেছে এটি আমার কাছে চমকপ্রদ কোন বিষয় নয়। চমকপ্রদ হচ্ছে জামায়াত ইসলামির ভোট ব্যাংক কলপনার বাহিরে বেড়ে যাওয়া নিয়ে। সরকারী হিসাবে জামায়াত ইসলামি ভোট পেয়েছে ৩১% আমরা জানি ২০০১, ২০০৮ সালে জামায়াতের ভোট ছিল কখনও ৪% কখনও ৭% কিন্তু জামায়াত ইসলামি প্রত্যেকবার ধর্মীয় মনোভাব পোষন করে মানুষের ভোট পেত, কিন্তু এবার আমরা লক্ষ্য করলাম জামায়াত ইসলামি ধর্ম বর্ণ র্নিবিশেষে মানুষের ভোট পেয়েছে। বহু সংখ্যালঘু পরিবারকে আমি দেখিছি নিজে থেকে বলতে তারা এবার পাল্লা মার্কায় ভোট দিবে। বহু আওয়ামী লীগকে আমি দেখেছি তারা পোষাকে ও মননে জামায়াতের রূপ ধারণ করেছে এবং ইসপাত কঠিন প্রতিজ্ঞা করেছে তারা নৌকা, ধানের শীষ বা অন্য কোন প্রতীকে ভোট দিবে না। কেবল মাত্র জামায়াত ইসলামির পাল্লা মার্কায় ভোট দিবে। প্রিয় পাঠক আমি একটা উদাহরন দিই তাহলে আপনি সহজে বুঝবেন আমরা যারা ডায়বেটিক রোগে আক্রান্ত তারা সকাল বেলায় হাটি ফজরের নামাজ পড়ার পর পরই একসাথে অনেক লোক হাটি এরমধ্যে আমাদের একটা সংগঠন আছে যার নাম ভোরের পাখি, প্রায়ই ৬০ জন সদস্য আছে, এর সভাপতি ১ জন স্বর্ণ ব্যবসায়ী, সবার জানামতে সে ছিল আওয়ামী রাজনীতির ধারক বাহক কিন্তু ৫ই আগষ্টের পর অবিশ্যাস্বভাবে সে জামায়াতের গোরতোর একজন সমর্থক হয়ে দাড়ান। এখন বিরোধী দল হিসাবে জামাতের দায়িত্ব শীল ভূমিকা মানুষ প্রতশা করে। একটা যোক্তিক সময় আবশ্যই সরকার কে দিতে হবে যেন দেশে স্থীতি শীলতা ও পরমত সহিষœতা সৃষ্টি হয় এবং দেশের নিরবিচিন্ন শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় থাকে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে সু-শাসন নিশ্চিতে বিরোধী দল সরকার কে কী পরিমান সময় দিলে তা যৌক্তিক হবে, তা নিয়ে জামাত কে আবশ্যই ওয়ার্কসপ করতে হবে তবেই অনাগত দিনে মানুষ জামাত কে সু-শাসনের সহযোগী দল হিসাবে বিবেচনা করবে।
