শীতের দিনে অফিস বা প্রয়োজনীয় কাজ ছাড়া বাইরে বের হতে ইচ্ছা করে না অনেকেরই। জরুরি কাজ সেরে ঘরে থাকা, শুয়ে বা বসে সময় কাটানোই বেশি পছন্দ হয়। এই সময়ে অলসতা, ঘুম ঘুম ভাব আর আড়মোড়া দিয়েই দিন কেটে যায়। তবে ঘরে বসে কাটানো এই অবসর মুহূর্তগুলোতে কিছু ভালো আমলে গুরুত্ব দেওয়া যেতে পারে। এতে সময় যেমন সুন্দরভাবে কাটবে, তেমনি আমলের খাতায়ও যোগ হবে অতিরিক্ত সওয়াব।
জিকির-দোয়া
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, “আল্লাহর স্মরণেই হৃদয় প্রশান্তি লাভ করে।” (সুরা রাদ, আয়াত: ২৮)
কোরআন তিলাওয়াতকারীদের সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেন, “যারা আল্লাহর কিতাব তিলাওয়াত করে, নামাজ কায়েম করে এবং আমি তাদেরকে যে রিজিক দিয়েছি তা থেকে (সৎকাজে) ব্যয় করে গোপনে ও প্রকাশ্যে, তারা এমন ব্যবসার আশাবাদী, যা কখনও লোকসান হয় না, যাতে আল্লাহ তাদেরকে তাদের পূর্ণ প্রতিফল দেন এবং নিজ অনুগ্রহে আরও বেশি দান করেন। নিশ্চয়ই তিনি অতি ক্ষমাশীল, অত্যন্ত গুণগ্রাহী।” (সুরা ফাতির, আয়াত, ২৯-৩০) যারা সবসময় কোরআন তিলাওয়ত করেন তাদের বিশেষ মর্যাদার কথা বর্ণনা করা হয়েছে হাদিসে। আনাস বিন মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, কিছু মানুষ আল্লাহর পরিজন। সাহাবিরা জিজ্ঞেস করেন, হে আল্লাহর রাসুল, তারা কারা? তিনি বলেন, কোরআন তেলাওয়াতকারীরা আল্লাহর পরিজন এবং তার বিশেষ বান্দা।’ (ইবনে মাজাহ: ২১৫)
নফল নামাজ
মাদান ইবনে আবু তালহা (রহ.) বলেন, আমি নবীজির আজাদকৃত (স্বাধীন করে দেওয়া) গোলাম সাওবান (রা.)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে জিজ্ঞেস করলাম, আমাকে এমন আমলের কথা বলে দিন, যা আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে! তিনি বলেন, এভাবে তিন বার জিজ্ঞাসার পর তিনি বললেন, আমিও নবী কারিম (সা.)-কে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তখন তিনি বলেছিলেন- ‘তুমি বেশি বেশি সিজদা করো (নফল নামাজ)। কেননা তোমার প্রতিটি সিজদার বিনিময়ে আল্লাহ তোমার একটি মর্যাদা বৃদ্ধি করবেন এবং একটি গুনাহ মিটিয়ে দেবেন।’
মাদান বলেন, পরবর্তী সময়ে আমি আবু দারদা (রা.)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ হলে তাকেও এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেছি, তিনিও একই উত্তর দিয়েছেন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৪৮৮)
