যাকে ইচ্ছা তাকে ভোট দেবেন, আমরা ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চাই বলে মন্তব্য করেছেন ফেনী-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী রফিকুল আলম মজনু। তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না, মানুষের পাশে থাকতেই রাজনীতি করে। অন্যায় আমি নিজে করব না এবং কাউকে করতেও দেবে না। বর্তমানে আমার হাতে ক্ষমতা নেই, তবে জনগণ ক্ষমতা দিলে অন্যায়ের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে। দলের কেউ অন্যায় করলে দলীয় কমিটিতে থাকতে পারবে না। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ফুলগাজী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে উপজেলা বিএনপির আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রফিকুল আলম মজনু বলেন, বিএনপি জাল ভোটের রাজনীতি করে না। কেউ জাল ভোট দিলে বা কেন্দ্র দখলের চেষ্টা করলে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে জানাতে হবে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়ার জন্য সবাইকে আহ্বান জানান তিনি।
জনসভায় রফিকুল আলম মজনু নির্বাচিত হলে তার ২৩ দফা নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিএনপি জাতীয়ভাবে ঘোষিত ইশতেহার বাস্তবায়নে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা করব। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে কাজ করব এবং মুক্তিযোদ্ধা ও জুলাই শহিদদের সর্বোচ্চ সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করা হবে।
তিনি বলেন, মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীতে কার্যকর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণসহ বল্লারমুখায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। ফেনীতে সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, নার্সিং ইনস্টিটিউট এবং একটি পূর্ণাঙ্গ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিন উপজেলায় মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণ, শিক্ষিত বেকার তরুণদের কর্মসংস্থানে বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ, বিদেশগামীদের জন্য বিএমইটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন এবং কৃষিকাজের সুবিধার্থে খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়নের কথাও জানান তিনি।
এছাড়া ভোক্তা পর্যায়ে নিরবিচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ, প্রতিবন্ধী ও দুঃস্থদের জন্য বিশেষ সহায়তা, মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ, প্রতিটি উপজেলায় পাবলিক লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা, উপজেলা ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও কমিউনিটি ক্লিনিক আধুনিকায়ন এবং অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস চালুর প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পরিবেশ বজায় রাখা, ফায়ার সার্ভিস স্টেশন আধুনিকায়ন, বিএনপি ঘোষিত ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষি কার্ড বাস্তবায়ন, নারীদের মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থান সৃষ্টি, গণমাধ্যমকর্মীদের বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশে সহযোগিতা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও রাজনৈতিক সহাবস্থান নিশ্চিত করার কথাও বলেন তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপির সহ-গ্রাম সরকার বিষয়ক সম্পাদক বেলাল আহমেদ বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে জনগণের ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করা হবে এবং নারীর মর্যাদা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে। গ্রামীণ জনপদের উন্নয়ন ও স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করাই বিএনপির লক্ষ্য।
বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য জালাল উদ্দিন মজুমদার বলেন, জামায়াতের রাষ্ট্র পরিচালনার কোনো অভিজ্ঞতা নেই এবং তাদের বিভ্রান্তিকর বক্তব্যের সমালোচনা করেন তিনি।
জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু তালেব বলেন, ফেনী-১ আসনে ধানের শীষের পক্ষে জনমত ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। জনগণ পরিবর্তনের অপেক্ষায় রয়েছে।
জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জামাল উদ্দিন রুনু বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখতে বিএনপি অঙ্গীকারবদ্ধ।
ফেনী জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলাল বলেন, ভারতকে নানা সুবিধা দেওয়া হলেও দেশের মানুষ কাঙ্ক্ষিত সুফল পায়নি। তিনি পরশুরাম থেকে চৌদ্দগ্রাম পর্যন্ত ট্রানজিট আদায়ের দাবি জানান, যা বাস্তবায়িত হলে ফুলগাজী ও পরশুরামের মানুষ ২ ঘণ্টা আগে চৌদ্দগ্রাম পৌঁছে যাবে এবং উপকৃত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মুহুরী, সিলোনিয়া ও কহুয়া নদী খনন করে টেকসই বাঁধ নির্মাণ করা হবে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন ফুলগাজী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফখরুল আলম স্বপন। সঞ্চালনা করেন উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবুল হোসেন ও যুগ্ম আহ্বায়ক গোলাম রসুল মজুমদার গোলাপ।
সভায় আরও বক্তব্য দেন ফুলগাজী উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি মোহাম্মদ ইউসুফ, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আমিনুর রাসুল, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়াসহ জেলা ও উপজেলা বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
