ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার আমজাদহাট ইউনিয়নের দক্ষিণ তালবাড়িয়া ফসলি মাঠে সেচ সংকট নিয়ে দৈনিক ফেনীতে প্রকাশিত সংবাদের পর স্কিম পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। গতকাল রোববার (১ মার্চ) দুপুরে দক্ষিণ তালবাড়িয়া মাঠে স্থানীয় কৃষক ও বিএনপি নেতাদের নিয়ে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এছাড়া সভায় কৃষকদের স্বার্থ বিবেচনায় চলতি বোরো মৌসুমে সেচ স্কিম পরিচালনা থেকে বিএনপি নেতা হাজী মুসা মিয়াকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সভায় প্রায় দুই শতাধিক কৃষক উপস্থিত ছিলেন।
সভা শেষে আমজাদহাট ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি গোলাম সরোয়ার সাংবাদিকদের জানান, সাংসদ রফিকুল আলম মজনুর নির্দেশনায় এবং কৃষকদের স্বার্থ বিবেচনায় চলতি বোরো মৌসুমে সেচ স্কিম পরিচালনা থেকে বিএনপি নেতা হাজী মুসা মিয়াকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ২৬ সদস্যের বিদ্যমান সমিতি পুনর্গঠন বা ভবিষ্যৎ কাঠামো নিয়ে পরে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এছাড়া ফুলগাজী থানায় পরস্পরের বিরুদ্ধে দায়ের করা দুটি অভিযোগ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গোলাম সরোয়ার স্বীকার করেন, স্থানীয় কৃষকদের পক্ষ থেকে হাজী মুসার বিষয়ে ঘোর আপত্তি রয়েছে।
গোলাম সরোয়ার আরও বলেন, আমি নিজে ফসলের জমি পরিদর্শন করে পানি দেখেছি। তবে তার আগে পানি ছিল কি না, তা বলতে পারছি না। তিনি সংসদ সদস্যের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, কৃষকরা যেন জমিতে পানি পায়, সেটিই প্রধান বিষয়।
সভায় স্থানীয় কৃষক আব্দুর রউফ, এরশাদ ও আব্দুল আজিজকে সেচ কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়। এদের মধ্যে আব্দুল আজিজ হিসাবরক্ষক (ক্যাশিয়ার) হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
কৃষকদের পানি না দেওয়ার ঘটনায় দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে কি না এ প্রশ্নের জবাবে গোলাম সরোয়ার বলেন, বিএনপি কৃষি ও কৃষকবান্ধব দল। এ বিষয়ে দলীয় ফোরামে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে ব্যক্তির দায় দল নিতে পারে না। বিএনপি বা সংসদ সদস্য কাউকে পানি দিতে মানা করেনি।
স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দ জানান, গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের ফলে দ্রুত সমাধানের পথ তৈরি হয়েছে। এ ঘটনায় সমাধান প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় তারা সাংবাদিকদের প্রতি ধন্যবাদ ও সন্তোষ প্রকাশ করেন।
সভায় আমজাদহাট ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন টিপু, ফুলগাজী উপজেলা জাতীয়তাবাদী কৃষকদলের সভাপতি মোহাম্মদ আবু আহাম্মদ আবু উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, দক্ষিণ তালবাড়িয়া মাঠে বোরো আবাদে সেচের পানি না পাওয়ার অভিযোগে গত সপ্তাহে কৃষকেরা বিক্ষোভ করেন এবং সেচ স্কিমের মালিক হাজী মুসা মিয়ার বিরুদ্ধে হয়রানি, গালিগালাজ ও মারধরের অভিযোগ তোলেন। হাজী মুসা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন। এ নিয়ে গত রোববার (১ মার্চ) “স্কিম মালিকের বিরুদ্ধে হুমকির অভিযোগ: ফুলগাজীতে জমিতে সেচ না পেয়ে ক্ষুব্ধ কৃষক” শিরোনামে দৈনিক ফেনীতে সংবাদ প্রকাশের পর এ নিয়ে ফুলগাজীতে আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়। সংবাদ প্রকাশের পর ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু বিষয়টি জেনেছেন বলে গোলাম সরোয়ার জানান।
এদিকে উপজেলা কৃষি দপ্তর, বিএডিসি ও উপজেলা প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে সরেজমিনে মাঠ পরিদর্শন করবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বোরো মৌসুমের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপে সেচ সংকট নিরসনের এ উদ্যোগ মাঠপর্যায়ে কতটা কার্যকর হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন দক্ষিণ তালবাড়িয়ার কৃষকরা।
