ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার মুন্সীরহাট বাজারে অবৈধভাবে আতশবাজি বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পবিত্র রমজানের শেষ সময়ে ঈদকে সামনে রেখে বাজারে যখন নতুন কাপড়-চোপড় কেনাকাটায় ব্যস্ত সময় পার করছেন ক্রেতারা, ঠিক তখনই এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী শিশুদের কাছে ঝুঁকিপূর্ণ আতশবাজি বিক্রি করছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
সরেজমিনে দেখা যায়, মুন্সীরহাট বাজারের কিছু দোকানে বিভিন্ন ধরনের আতশবাজি বিক্রি করা হচ্ছে। সন্ধ্যা নামলেই গ্রামীণ জনপদে ‘ঈদের আনন্দ’কে কেন্দ্র করে এসব আতশবাজি ফোটানো শুরু হয়। এতে একদিকে যেমন শব্দ দূষণ বাড়ছে, অন্যদিকে নিরাপত্তা ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে।
স্থানীয় অভিভাবকরা উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, অল্প বয়সী শিশুদের হাতে আতশবাজি তুলে দেওয়ার ফলে তারা বিপথগামী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে, যা যে কোনো সময় বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
এদিকে ঈদের পরপরই শুরু হতে যাচ্ছে এসএসসি, দাখিল ও ভোকেশনাল পরীক্ষা। এমন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আতশবাজির বিকট শব্দে পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মারাত্মক ব্যাঘাত সৃষ্টি হতে পারে বলে মনে করছেন অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা। এছাড়া উচ্চ শব্দের কারণে নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের শারীরিক ও মানসিক ক্ষতির আশঙ্কাও রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, এসব আতশবাজি কোথা থেকে আসছে তা তদন্ত করলে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে। বিশেষ করে চালানপত্র যাচাই করলে সরবরাহ চক্র সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া সম্ভব।
এ বিষয়ে ফুলগাজী থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) নুরুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমাদের জানা নেই।
স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ এবং নিয়মিত নজরদারি না থাকলে এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হতে পারে। তাই শিশুদের নিরাপত্তা ও জনস্বার্থে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
