বর্ষা আগমনের দিন ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে বন্যার আতঙ্ক বছর ঘুরে ফিরে এসেছে ফুলগাজীর মুন্সীরহাট ইউনিয়নের কমুয়া চানপুরে সিলোনীয়া নদীপাড়ের মানুষদের মনে। বন্যার কবল থেকে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণে বহুদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসলেও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থতার অভিযোগে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে দুষছেন তারা।

ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার মুন্সীরহাট ইউনিয়নের কমুয়ার চানপুরে সিলোনীয়া নদীর ভাঙনস্থলে এক বছরেও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ না হওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসছে নদী পাড়ের মানুষ। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) অবহেলার অভিযোগ এনে মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বিকেলে ভাঙন এলাকায় বিক্ষোভ করেন তারা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত বছরের জুন-জুলাই মাসে ভয়াবহ বন্যায় কমুয়া চানপুরসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়। পানি নেমে যাওয়ার পরও এখন পর্যন্ত ভাঙনস্থলে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করতে পারেনি পাউবো। ফলে সামনের বর্ষা মৌসুমে আরও একবার বন্যার কবলে পড়ার আতঙ্ক ফিরে এসেছে স্থানীয় মানুষদের মনে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভারত থেকে নেমে আসা সিলোনীয়া নদীর প্রবল স্রোতের কারণে প্রতিবছর ফেনীর ফুলগাজী ও পরশুরামের বিভিন্ন স্থান ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকায় পানিতে তলিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে আসছে। বিশেষ করে মুন্সীরহাট ইউনিয়নের পশ্চিমাংশে প্রবাহিত নদীর তীরে একাধিক ভাঙন এলাকাবাসীর জন্য স্থায়ী দুর্ভোগ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থায়ী বাঁধ নির্মাণে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিছেন তারা। 

গত বছর পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ফুলগাজী উপজেলার বিভিন্ন নদীতে মোট ১৮টি স্থানে ভাঙন রয়েছে। এর মধ্যে মুহুরী নদীতে দেড়পাড়া, উত্তর শ্রীপুর, দক্ষিণ দৌলতপুর ও দক্ষিণ শ্রীচন্দ্রপুর এলাকায় ৫টি, কহুয়া নদীতে উত্তর দৌলতপুর, দক্ষিণ দৌলতপুর ও উত্তর ধর্মপুর এলাকায় ৭টি এবং সিলোনীয়া নদীতে নোয়াপুর, দক্ষিণ তারালিয়া, কমুয়া চানপুর ও নিলক্ষীতে ৬টি ভাঙন চিহ্নিত হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২০২৪ সালে ফুলগাজীতে পর্যায়ক্রমে কয়েকবার বন্যা হয়েছিল—জুলাই মাসেও বাঁধ ভেঙে বেশ কিছু গ্রাম প্লাবিত হয়েছিল, তবে আগস্টের বন্যা ছিল সবচেয়ে প্রলয়ঙ্কারী।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া এলাকাবাসী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, স্থানীয় সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু এবং উপজেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে অবিলম্বে বাঁধ নির্মাণের দাবি জানান। তারা বলেন, বর্ষার আগেই ভাঙনস্থলে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ না হলে আবারও ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়তে হবে।

‘আশার বাণীতে’ বছর পার

গত বছরের ২৭ জুলাই “ফুলগাজীতে বাঁধের ভাঙন স্থান দিয়ে পানি ঢুকে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে টানা বৃষ্টিতে সিলোনীয়া নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে মুন্সীরহাটের কমুয়া চানপুর অংশে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ভাঙনের বিষয়ে তথ্য উল্লেখ করা হয়। তবে ওই সংবাদ প্রকাশের পরও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তেমন কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি বলে বলছেন স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ।

গত বছরের ৬ আগস্ট দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি টিম ফুলগাজী উপজেলার মুহুরী নদীর উত্তর শ্রীচন্দ্রপুর, উত্তর বরইয়া ও উত্তর দৌলতপুর এলাকার বেড়িবাঁধ পরিদর্শন করে। দুদকের সহকারী পরিচালক (ডিডি) আবদুল্লাহ আল নোমানের নেতৃত্বে ওই টিম সময় স্বল্পতার কারণে কমুয়া চানপুর এলাকা পরিদর্শন করতে পারেন নি। তখন পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা দ্রুত বাঁধ নির্মাণের আশ্বাস দেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও বাস্তবে সেই প্রতিশ্রুতি এখনো বাস্তব হয়নি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পাউবো’র ফুলগাজী উপজেলা উপসহকারি প্রকৌশলী মো. ফাহাদ্দিস হোসাইন দৈনিক ফেনীকে জানান, বাঁধ মেরামতে ঠিকাদারকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। কাজ সম্পাদনে ঠিকাদারের আবেদনে সময় বাড়ানো হয়েছে। শীঘ্রই বাঁধ মেরামতের কাজ শুরু হবে। তবে এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানাতে পারেন নি তিনি।