মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-আমেরিকা চলমান যুদ্ধে জ্বালানি সরবরাহ খাত বিপর্যস্ত হয়ে পড়ার দেশের তেলের সংকটের প্রভাবে পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। আর এই যুদ্ধের প্রভাব এসে পড়েছে ফেনীর বাজারে। ফেনীর কাঁচাবাজারগুলোতে মাছ, মুরগি, সবজিসহ প্রায় সবকিছুর দাম বেশ চড়া হয়ে ওঠেছে। শাকসবজির দরে ওঠানামা করলেও মাছ, মুরগির দাম কিছুটা চড়া। কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা দাবি করছেন, পণ্য পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি ও সরবরাহে চাপ সৃষ্টি হওয়ায় বাজারে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ফেনী শহরের ট্রাংক রোড, পৌর হকার্স মার্কেট ও মহিপাল কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে এমন তথ্য মিলেছে। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রোটিনের বাজারে চাপ একটু বেশি। সোনালী বড় আকারের মুরগী ৪০০ টাকা, সোনালী ছোট আকারের মুরগী ৩৯০ টাকা, ব্রয়লার মুরগী ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকা, লাল মুরগী ৩৫০ থেকে ৩৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফার্মের ডিম ডজনপ্রতি ১০৮ থেকে ১১২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজারেও চড়াভাব লক্ষ্য করা গেছে। বড় বাগদা চিংড়ি ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকা, গলদা ৮৫০ থেকে ৯০০ টাকা, তেলাপিয়া ২৬০ থেকে ২৮০ টাকা, পানগাস ১৭০ থেকে ২২০ টাকা, মৃগেল ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকা এবং কাতলা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে ছড়া কেজিপ্রতি ৪০ টাকা, টমেটো ২৫ টাকা, বেগুন ৬০ টাকা, মূলা ৪০ টাকা, ধনিয়া পাতা ১০০ টাকা, কাঁচা মরিচ ৫০ টাকা, পাতাকপি ২০ টাকা, সাদা কুমড়া ৩০ টাকা, খিরা ২৫ টাকা, ঢেঁড়স ৫০ টাকা, পটল ৭০ টাকা, করলা ৭০ টাকা, সসিন্দা ৭০ টাকা, বরবটি ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে বাজারে নতুন আসা সবজির গুলো বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। এরমধ্যে আঁকড়ি ১৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে চাল, ডালসহ কিছু নিত্যপণ্যের দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকলেও বাজারে সামগ্রিক চাপ রয়েছে। আটাশ চাল ৬২ থেকে ৬৫ টাকা, মিনিকেট চাল ৮০ থেকে ৮৫ টাকা, আটা ৪৬ থেকে ৫০ টাকা, ময়দা ৭০ থেকে ৭৫ টাকা, মসুরের ডাল মানভেদে ৯০ থেকে ১০০ টাকা, ১৬০ টাকা, পেঁয়াজ ৩৫ টাকা,আলু ২০ টাকা, রসুন ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা, আদা ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে বাজারে সয়াবিন তেল ১৯০ থেকে ১৯২ টাকা লিটার এবং চিনি ১০০ থেকে ১০৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা বিগত সপ্তাহের তুলনায় বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

বাজার করতে আসা নাজির রোড এলাকার ক্রেতা রাজিব দেওয়ান বলেন, জ্বালানি সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে নিত্যপণ্যের বাজারে আরও চাপ তৈরি হতে পারে। তাই সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা এবং বাজার তদারকি করা জরুরি। সবকিছুর দাম উর্ধ্বমুখী হচ্ছে। মধ্যবিত্ত পরিবারের সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

এ ব্যাপারে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ফেনী জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আছাদুল ইসলাম বলেন, চলমান বৈশ্বিক সংকটকে কাজে কাজে লাগিয়ে ভোক্তার পকেট থেকে যেন বাড়তি ব্যয় না হয় সেজন্য আমরা বাজার নজরদারিতে রেখেছি। সার্বক্ষণিক বাজার মনিটরিং এর পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের সচেতন করা হচ্ছে। নিয়মিত অভিযানের পাশাপাশি জ্বালানি সংকট দেখিয়ে ভোক্তাদের থেকে যেন অতিরিক্ত খরচ না নিতে পারে সেজন্য ভোক্তা অধিকার, জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন কাজ করছে। এছাড়াও ভোক্তারা অভিযোগ দিলে সেগুলোও নিষ্পত্তি করা হচ্ছে।

অনিশ্চয়তায় ভুগছেন ব্যবসায়ীরা

শহরের বড় বাজারের সবজি বিক্রেতা মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণে পরিবহন খরচ বাড়লেও সবজির দাম এখনও স্থিতিশীল রয়েছে। তবে দাম বাড়ার আশংকা রয়েছে। পাইকারি বাজার থেকে দাম বাড়তি হলে খুচরা বাজারেও দাম বাড়বে। সবজি বিগত এক সপ্তাহ যাবত এই দামেই বিক্রি হচ্ছে। মাঝে কিছুটা বেড়েছিল তবে এখন আবার কমে গেছে। এরমধ্যে নতুন সবজির দাম তুলনামূলক বেশি।

পৌর হকার্স মার্কেটের ব্যবসায়ী জাফর আহম্মেদ বলেন, সবজির দাম এখনও উঠানামার মধ্যে রয়েছে। এখন যে দাম রয়েছে সেটি বিগত এক সপ্তাহ যাবত স্থিতিশীল। তবে কিছু কিছু কাঁচাপণ্যর দাম বাড়তি। চলমান সংকট যত দীর্ঘ হবে দাম তত বাড়বে। কারণ গাড়ি ভাড়া বাড়ছে সবকিছুতে।

পৌর হকার্স মার্কেটের ব্যবসায়ী আবদুল খালেক বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণে পরিবহন ব্যয় বাড়ায় সরবরাহে প্রভাব পড়ছে। এতে আগামী এক-দুই সপ্তাহ দামের ঊর্ধ্বগতি আরও বাড়তে পারে।

ফেনী বড় বাজারের মুদি বিক্রেতা শহিদুল হক জানান, পাইকারি বাজারেই দাম বাড়তি। খুচরা পর্যায়ে কম দামে বিক্রি করলে লোকসান গুনতে হয়। ফলে ব্যবসায়ীরাও চাপে আছেন।

ফেনী পৌর তরকারি আড়ত ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সভাপতি ইলিয়াস ভূঁইয়া বলেন, জ্বালানি পরিস্থিতির কারণে পরিবহন ব্যয় বাড়ায় বাজারে প্রভাব পড়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বাজারও স্থিতিশীল হবে বলে আশা করা যায়। এখন পর্যন্ত দাম নিয়ন্ত্রণে রয়েছে তবে সংকট যত গভীর হবে দাম বাড়ার আশংকাও তত বেশি প্রবল। কারণ গাড়ি ভাড়া যত বাড়বে কেজিপ্রতি দাম ও বাড়বে যাড় প্রভাব খুচরা বাজারে পড়বে।