ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার সীমান্তবর্তী পৈথারা মৌজায় দেশীয় প্রযুক্তিতে হাইব্রিড ধান বীজ উৎপাদন করছে রূপম সীড, যা স্থানীয় কৃষি খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করছে। প্রায় ১০ একর জমিতে উৎপাদিত এ বীজ কৃষকদের জন্য যেমন লাভজনক, তেমনি বিদেশি বীজের ওপর নির্ভরতা কমানোর ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মুন্সীরহাট-কমুয়া সড়ক থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার পশ্চিমে বিস্তৃত মাঠজুড়ে দুলছে হাইব্রিড ধানের শীষ। মাঠে শ্রমিকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন বীজ উৎপাদন ও পরিচর্যার কাজে।

রূপম সীডের স্বত্বাধিকারী শাহাদাত হোসেন ভূঞা জানান, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) উদ্ভাবিত বি হাইব্রিড ধান বীজ-৮ ও বি হাইব্রিড-৩ জাত এখানে উৎপাদন করা হচ্ছে। ২০১৩ সাল থেকে ব্রির হাইব্রিড রাইস বিভাগের তত্ত্বাবধানে এই কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে।

তিনি বলেন, দেশীয়ভাবে হাইব্রিড ধান বীজ উৎপাদনের মাধ্যমে বিদেশি বীজ আমদানির ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব হচ্ছে। এতে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের পাশাপাশি দেশের আবহাওয়ার সঙ্গে মানানসই হওয়ায় ফলনও ভালো পাওয়া যাচ্ছে।

হাইব্রিড বীজ উৎপাদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি জানান, দুটি ভিন্ন জাতের সংকরায়নের মাধ্যমে উচ্চ ফলনশীল এই বীজ তৈরি করা হয়। স্থানীয় পরিবেশে দ্রুত পরিপক্ব হওয়ায় এ বীজ কৃষকদের জন্য লাভজনক হয়ে উঠছে।

রূপম সীডের বাণিজ্যিকভাবে বাজারজাতকৃত ‘রুপা ধান-৮’ জাতটি সর্বোচ্চ প্রায় ১১.৮ টন পর্যন্ত ফলন দিতে সক্ষম বলে দাবি করা হয়েছে। এছাড়া ‘নবরুপা-৩’ নামে আরেকটি হাইব্রিড জাত দেশের নিম্নাঞ্চলে বিশেষ চাহিদা সৃষ্টি করেছে। বর্তমানে এ জাতটি প্রায় ৪ একর জমিতে চাষাবাদ করা হচ্ছে এবং সীমিত পরিসরে বাজারজাত করা হচ্ছে।

রূপম সীড সূত্রে জানা গেছে, ফেনী জেলা ছাড়াও চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় এ বীজ সরবরাহ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রয়োজনীয় সহায়তা ও তদারকি বাড়ানো হলে দেশীয় হাইব্রিড বীজ উৎপাদন কৃষি খাতে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

স্থানীয় কৃষকদের মতে, সহজলভ্য ও মানসম্মত দেশীয় বীজ উৎপাদন বৃদ্ধি পেলে উৎপাদন খরচ কমবে এবং কৃষকের লাভ বাড়বে। ফলে দেশের কৃষি খাত আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেছেন।