দীর্ঘদিনের দখল, ভরাট ও অবহেলায় অস্তিত্ব সংকটে পড়া ফুলগাজীর উলসী খালের পুনর্খনন কাজ শুরু হয়েছে। প্রায় ৫১ লাখ টাকা ব্যয়ে খালটির অন্তত ২ কিলোমিটার অংশ পুনর্খনন করা হবে। এতে জলাবদ্ধতা নিরসন, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির আশা করছেন স্থানীয়রা।

রোববার (৩১ মে) দুপুরের দিকে উপজেলার মুন্সীরহাট ইউনিয়নের গতিয়ার খাল থেকে সিলোনিয়া নদী সংলগ্ন নোয়াপুর কুঁইপাথর অংশের পুনর্খনন কাজের উদ্বোধন করেন ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু।

উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, কৃষি ও মানুষকে বন্যার হাত থেকে রক্ষার জন্যই এ খাল খনন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। খালটি যেন পরিকল্পনা অনুযায়ী ও সুষ্ঠুভাবে খনন করা হয়, সেই বিষয়ে প্রশাসনের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিরাও তদারকি করবেন।

রফিকুল আলম মজনু বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো একে একে বাস্তবায়ন করবেন। শুধু খাল খনন নয়, নদীর নাব্যতা রক্ষায় নদীও খনন করা হবে। পরিবেশ ও কৃষি রক্ষায় খাল খনন এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এলাকার উন্নয়ন ও সুশাসনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে মজনু বলেন, জনগণ আমাকে ভোট দিয়েছে তাদের জন্য কাজ করার জন্য। আমি সকল দলের, সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতিনিধি। দল-মত নির্বিশেষে সকলের জন্য কাজ করব। কোনো ধরনের অন্যায় কর্মকাণ্ড কাউকে করতে দেওয়া হবে না।

মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মাদক কারবারি ও মাদকসেবনকারীদের সঙ্গে বিএনপির কোনো সম্পর্ক থাকতে পারে না। তাদের চিহ্নিত করে পুলিশের হাতে তুলে দিতে হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ইজিপিপি কর্মসূচির আওতায় বাস্তবায়িত এ প্রকল্পে প্রায় ৫১ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে। ‘গতিয়ার খাল-তারালিয়া, নোয়াপুর (গতিয়ার খাল থেকে সিলোনিয়া খাল পর্যন্ত) খাল পুনর্খনন’ প্রকল্পের আওতায় প্রায় ২ কিলোমিটার অংশ পুনর্খনন করা হবে। ৮ ফুট গভীরতায় খালের প্রস্থ ৩৫ থেকে ৪৫ ফুট নির্ধারণ করা হয়েছে। 

স্থানীয়ভাবে উলসী খাল নামে পরিচিত এ জলপথটির উৎস নোয়াপুর-তারালিয়া কৃষি প্রান্তরে। খালটি নোয়াপুর বটতলী বাজার অতিক্রম করে পশ্চিম দিকে প্রবাহিত হয়ে সিলোনিয়া নদীতে মিলিত হয়েছে। দীর্ঘদিনের দখল, ভরাট ও অবহেলায় খালটির স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়ায় কৃষিজমিতে পানি নিষ্কাশন সংকট দেখা দেয়। ফলে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা এবং কৃষি উৎপাদনে নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়।

উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, খালটি পুনর্খনন করা হলে নোয়াপুর-তারালিয়া কৃষি প্রান্তরের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নতি ঘটবে এবং আমন, বোরো ও শীতকালীন সবজি চাষে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। দীর্ঘদিনের সেই দাবি বাস্তবায়নের পথে এগোনোয় স্থানীয় কৃষকদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

ফুলগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহরিয়া ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সোহেলী নোশীন প্রত্যাশা, স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী সৈয়দ আসিফ মুহাম্মদ, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মুরাদ হোসেন, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফখরুল আলম স্বপন, সদস্য সচিব আবুল হোসেন ভূঞা, যুগ্ম আহ্বায়ক গোলাম রসুল মজুমদার গোলাপ, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রাজীব আহম্মেদ, মুন্সীরহাট ইউনিয়নের প্রশাসক ও প্রকল্প সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন, মুন্সীরহাট ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নুরুল হক, সাধারণ সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী লিটন, দরবারপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফজলু চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক বাবলু চৌধুরী, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ফরিদ আহমেদ ভূঞা, যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হুদা শাহীন, মোশাররফ হোসেন চৌধুরী সোহেল, বেলাল হোসেন, আবদুল কাদের জিলানী, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোহাম্মদ ইউছুফসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও এলাকার বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।