সোনাগাজীতে সৌদি আরব প্রবাসী সাইদুর রহমানের বাড়িতে তৃতীয়বারের মতো লুটের ঘটনা ঘটেছে। গভীর রাতে ভেন্টিলেটর ভেঙে ঘরে ঢুকে ডাকাতরা প্রবাসীর বৃদ্ধ পিতা শামসুল হুদা মিয়াকে বেদম মারধর ও কুপিয়ে জখম করেছে। নারী ও শিশুদের জিম্মি করে চালানো এই লুটপাটে পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় পড়েছে।

ঘটনাটি রবিবার (১৮ জানুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে সোনাগাজী উপজেলার মতিগঞ্জ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সৈয়দপুর গ্রামে শামসুল হুদা মিয়ার নতুন বাড়িতে ঘটে।

ভুক্তভোগী শামসুল হুদা মিয়া জানান, এর আগেও ২০০৭ ও ২০২২ সালে একই বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছিল। বারবার একই পরিবারের লুটপাট এবং হামলার ঘটনায় তারা চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন। এদিকে স্থানীয়রা বলেন, সোনাগাজীতে উদ্বেগজনক ভাবে চুরি, ডাকাতি এবং দস্যুতার ঘটনা বেড়েছে। পূর্বের ঘটনাগুলোতে চোর, ডাকাতদের গ্রেপ্তার না করা এবং মালামাল উদ্ধার না হওয়ায় বারবার একই ঘটনা ঘটেছে।

স্থানীয় এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় পাশের বাড়িতে স্বজনের বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল। পরিবারের কয়েকজন সদস্য সেখানে অবস্থান করছিলেন। বাড়িতে ছিলেন প্রবাসীর বৃদ্ধ পিতা শামসুল হুদা মিয়া, পুত্রবধূ বিবি আয়েশা এবং পাঁচ ও তিন বছর বয়সী দুই নাতি-নাতনি।

রাতের আঁধারে মুখোশধারী চারজন ভেন্টিলেটর ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকার দাবি করে। টাকা ও অলংকার দিতে অস্বীকার করলে অস্ত্রধারীরা শামসুল হুদা মিয়াকে রড দিয়ে মারধরের পর ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত করে।

এ সময় ঘরের আসবাবপত্র ব্যাপকভাবে ভাঙচুর করা হয়। পরে নগদ ২০ হাজার টাকা, দুটি মোবাইল ফোন এবং ১২ আনা ওজনের দুই জোড়া স্বর্ণের কানের দুল লুট করে নেয়। একটি দুল পুত্রবধূর কান থেকে খুলে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রবাসীর স্ত্রী বিবি আয়েশা বলেন, আমি আমার পাঁচ বছরের মেয়ে ও তিন বছরের ছেলেকে নিয়ে ঘুমিয়ে ছিলাম। হঠাৎ চারজন লোক ঘরে ঢুকে আমাদের জিম্মি করে। তারা আমার শ্বশুরকে বেধড়ক মারধর করে। তিনি কিডনি রোগী—সপ্তাহে দুই দিন ডায়ালাইসিস করতে হয় বলার পরও তারা একটুও দয়া দেখায়নি।

আহত শামসুল হুদা মিয়া বলেন, ডাকাতরা প্রথমে পুত্রবধূ ও শিশুদের একটি কক্ষে আটকে রাখে। এরপর আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে ছেলের পাঠানো টাকার কথা জানতে চায়। কিছু জানাতে না পারায় আমাকে মারধর ও কুপিয়ে জখম করে। যাওয়ার সময় বাইরে থেকে দরজা আটকে দেয়।

ঘটনার পর আহত অবস্থায় রাতভর একটি কক্ষে আটকে থাকে পরিবারটি। সকালে জানালা দিয়ে চিৎকার শুনে প্রতিবেশী শ্যামল চন্দ্র শর্মা দরজা খুলে দিলে তারা উদ্ধার হয়।

পরিবার জানায়, আহত শামসুল হুদা মিয়াকে প্রাথমিকভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তিনি বর্তমানে শারীরিকভাবে দুর্বল অবস্থায় রয়েছেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, গ্রামটি তুলনামূলক নির্জন হওয়ায় রাতে নিয়মিত পুলিশ টহল চোখে পড়ে না। এতে অপরাধীরা সুযোগ নিচ্ছে।

এ বিষয়ে সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের শনাক্তে কাজ চলছে। তবে এখনো পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেয় নি।