সোনাগাজীতে পাচারের উদ্দেশ্যে অজ্ঞাত স্থান থেকে নিয়ে আসা এক শিশুকে উদ্ধার করা হলেও এখনো তার পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। এ ঘটনায় শিশুপাচারের অভিযোগে এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, গত সোমবার (১৯ জানুয়ারি) উপজেলার বগাদানা ইউনিয়নের আলমপুর এলাকা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় শিশুপাচারের সন্দেহে আসমাউল হুসনা নামে এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে সোনাগাজী মডেল থানার এএসআই প্রদীপ দে বাদী হয়ে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলার পর অভিযুক্তকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।
মামলার শুনানি শেষে ফেনী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) এন. এম. মোরশেদ খান উদ্ধার হওয়া শিশুটিকে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও নিরাপদ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়। শিশুটির প্রকৃত অভিভাবকের সন্ধান পেতে তদন্তকারী কর্মকর্তা যেন স্থানীয় ও জাতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রচার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্য প্রকাশ এবং নিখোঁজ বিজ্ঞপ্তি জারিসহ সব ধরনের আইনসম্মত উদ্যোগের নির্দেশ দেন আদালত।
পুলিশ জানায়, আদালতের নির্দেশনা পাওয়ার পর উদ্ধার হওয়া শিশুটির পরিচয় শনাক্ত এবং পরিবারের কাছে পৌঁছে দিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক সাইদ মিয়া জানান, স্থানীয় এলাকাবাসী শিশুপাচারের সন্দেহে এক নারীকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। এরপর থেকেই শিশুটিকে হেফাজতে নেওয়া হয়। শিশুটিকে তার প্রকৃত অভিভাবকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়াই পুলিশের প্রধান লক্ষ্য। তিনি বলেন, ঘটনার সূত্র উদঘাটনের পাশাপাশি শিশুটির পরিবারের সন্ধান পেতে আমরা আশাবাদী। শিশুটির নিরাপত্তায় সার্বক্ষণিক পুলিশ পাহারা দেওয়া হচ্ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, শিশুটি উদ্ধারের পর গত মঙ্গলবার থেকে আমাদের হেফাজতে রয়েছে। আদালতের নির্দেশে বৃহস্পতিবার শিশুটির প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, পরিচর্যা, নিরাপত্তা এবং ডিএনএ প্রোফাইল সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে শিশুটি সুস্থ আছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টরা নিয়মিত শিশুটির সুস্থতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছেন।
