সোনাগাজী উপজেলার মতিগঞ্জে খাদ্য অধিদপ্তরের চালের কার্ড বিতরণকে কেন্দ্র করে স্বেচ্ছাসেবক দল ও শ্রমিক দল নেতার মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অন্তত ৩ জন আহত হয়েছেন। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টার দিকে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন-ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা রফিকুর জামান এমরান চৌধুরী, তার ছেলে মুফরাত জামান চৌধুরী ও ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক রাকিব।

 

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ইউনিয়ন পরিষদে খাদ্য অধিদপ্তরের কার্ড বিতরণ ও তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তি নিয়ে এমরান চৌধুরী ও রাকিবের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে হাতাহাতি শুরু হয়। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। সংঘর্ষে এমরান চৌধুরীর হাত ভেঙে যায় এবং তার ছেলের মাথায় আঘাত পান। এছাড়া রাকিবের হাতে জখম হয়েছে। তারা সোনাগাজী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চিকিৎসা নিয়েছেন।

মতিগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের সচিব খোকন জানান, সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি ইউনিয়নে ৮৮টি কার্ড বিতরণ করা হবে। যাচাই-বাছাই শেষে তালিকা প্রণয়ন করে কার্ড দেওয়া হবে। প্রতিটি কার্ডধারী মাসে ১৫ টাকা কেজি দরে ৩০ কেজি চাল সংগ্রহ করতে পারবেন।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় নেতা বলেন, ৮৮টি কার্ডের মধ্যে ৯টি ওয়ার্ডে ৮টি করে ৭২টি কার্ড বণ্টনের তালিকা প্রস্তুতের জন্য বিএনপির নেতাকর্মীকে এনআইডিসহ নাম দেওয়ার জন্য বলেছন ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নার্গিস আক্তার। অবশিষ্ট কার্ডের একটি অংশ গ্রাম পুলিশদের মাধ্যমে বিতরণের কথা রয়েছে। মূলত তালিকা প্রণয়ন ও কার্ড ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করেই বিরোধের সূত্রপাত বলে জানান তারা।

ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা এমরান চৌধুরী বলেন, গরিব মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়ে এনআইডি কার্ড সংগ্রহে বাধা দিলে রাকিব আমাকে ও আমার ছেলেকে লোহার রড দিয়ে আঘাত করে।

অভিযোগ অস্বীকার করে ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক রাকিব বলেন, দুইজন অসহায় মানুষের কার্ড জমা দিতে গেলে এমরান বাধা দেন। আমাকে অপমানজনক ভাষায় গালিগালাজ করেছে। আমার বিরুদ্ধে করা এসব অভিযোগ সত্য নয়।

জানা গেছে, শ্রমিক দল নেতা রাকিব সম্প্রতি ইউনিয়ন পরিষদে গ্রাম পুলিশ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। তিনি ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দায়িত্বে রয়েছেন।

ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নার্গিস আক্তার বলেন, মারামারির ঘটনা শুনেছি। অফিসে গিয়ে বিস্তারিত জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ব্যাপারে সোনাগাজী মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এখনো কোন পক্ষ লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।