ফেনীর সোনাগাজীতে পরকীয়া সন্দেহে আইয়ুব নবী তারেক (২৬) নামে এক যুবককে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার বগাদানা ইউনিয়নের গুনক গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত তারেক বগাদানা ইউনিয়ন তাঁতী দলের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন। তিনি গুনক গ্রামের লক্স মালের বাড়ির কামাল উদ্দিনের ছেলে।

নিহতের বাবা কামাল উদ্দিন বলেন, ইফতারের পর একই বাড়ির ওহিদুর রহমানের স্ত্রী নাহার আমার ছেলেকে তাদের ছেলে নাহিদ ও তার স্ত্রীর চলমান পারিবারিক সমস্যা সমাধানের কথা বলে ডেকে নেন। তারেক ঘটনাস্থলে গেলে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে নাহিদ, সাঈদ, নিলয় ও নাহার দেশীয় ধারালো অস্ত্র ও লাঠি দিয়ে তাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করে। তাদের এলোপাতাড়ি মারধরে আমার ছেলে সেখানে বমি করে।

তিনি বলেন, মারধরের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি আমার ছেলের নিথর দেহ মাটিতে পড়ে রয়েছে। ওহিদুর রহমান আমার ছেলেকে 'ডাকাত' বলে চিৎকার করে তখনো লাঠি দিয়ে শরীরে এলোপাতাড়ি আঘাত করছে। আমি এ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা বলেন, নিহত তারেকের সঙ্গে অভিযুক্ত নাহিদের স্ত্রীর পরকীয়ার সম্পর্ক নিয়ে এলাকায় গুঞ্জন ছিল। এটিকে কেন্দ্র করেই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করছেন তারা।

আবদুল গফুর নামে তাদের এক প্রতিবেশী বলেন, কিছুদিন আগে স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য আবদুল হক চৌধুরীর কাছে নাহিদ তার স্ত্রীর সঙ্গে তারেকের সম্পর্ক রয়েছে জানিয়ে অভিযোগ করে বিষয়টি নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুরোধ জানান। তবে তারেক এই ধরনের কোনো ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে আমার জানা নেই। সেই ঘটনার জের ধরেই এ হত্যাকাণ্ড 

এদিকে খবর পেয়ে সোনাগাজী মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেন। 

এ ব্যাপারে সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি দেশীয় অস্ত্র (কিরিচ) উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।