সোনাগাজীতে সেপটিক ট্যাংকের ভেতর থেকে নির্মাণসামগ্রী অপসারণ ও পরিষ্কারের সময় দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টার দিকে পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডস্থ দেলোয়ার হোসেন সড়কের জামাল উদ্দিনের ভবনে এ ঘটনা ঘটে।
মৃত দুই শ্রমিক হলেন-উপজেলার সদর ইউনিয়নের চরখোয়াজ এলাকার নুরুল হকের ছেলে মো. সজীব (২২) ও মো: মোস্তফা ছেলে মো. আরাফাত (২১)। তারা সম্পর্কে চাচা-ভাতিজা। এ ঘটনায় চরচান্দিয়া এলাকার কবির নামের এক কন্ট্রাক্টর আহত হয়েছেন। তিনি সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি নির্মাণাধীন ভবনটিতে একটি সেপটিক ট্যাংক নির্মাণ করা হয়। ঢালাই শক্ত হওয়ার পর শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কন্ট্রাক্টর মো. কবিরের তত্ত্বাবধানে শ্রমিকরা কাঠ-বাঁশ খুলতে সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় ভেতরেই অচেতন হয়ে পড়েন তারা। বিষয়টি কন্ট্রাক্টর নিজে টের পেয়ে দ্রুত তাদের উদ্ধারের চেষ্টা করলে নিজেও অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে খবর পেয়ে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক দুইজনকে মৃত ঘোষণা করেন।

পুলিশ ও স্থানীয়দের ধারণা, ট্যাংকের ভেতরে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাসের প্রভাবে তারা শ্বাসরোধে মারা গেছেন।
এদিকে মৃত্যু ঝুঁকি জেনেও ট্যাংকের ভেতরে কাজ করতে পাঠানোর পরেও এ ঘটনায় মামলা না করতে ঘটনার পর নিহতদের পরিবারকে নিয়ে ভবনের মালিক জামাল উদ্দিন এবং কন্ট্রাক্টর কবির হোসেন সমঝোতায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন। পরে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের মধ্যস্থতায় সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এদিন সন্ধ্যায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে উভয়পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়।

আপসনামা সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে উভয়পক্ষের সম্মতিতে নিহত দুই শ্রমিকের পরিবারকে মানবিক সহায়তা হিসেবে মোট সাড়ে ৫ লাখ টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এর মধ্যে নিহত মো. সজীবের পরিবারকে ২ লাখ ৭৫ হাজার টাকা এবং মো. আরাফাতের পরিবারকে ২ লাখ ৭৫ হাজার টাকা দেওয়ার বিষয়ে সমঝোতা হয়। তাৎক্ষণিক উভয় পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা করে নগদ প্রদানের সিদ্ধান্ত হয়।

ভবন মালিকপক্ষের সমঝোতাকারী সাবেক পৌর কাউন্সিল জিয়াউর রহমান মোরশেদ বলেন, এখানে মালিকপক্ষের কোন দোষ নেই। মামলা করলেও কী এমন পাবে। স্থানীয়ভাবে উভয়পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

ঠিকাদার পক্ষে সমঝোতাকারী মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, এটি একটি দুর্ঘটনা। নিহতদের পরিবারের কষ্ট বিবেচনায় সহযোগিতার হাত বাড়ানো হয়েছে। আমি মূল ঠিকাদার না , তাই এখানে আমার নাম দেবেন না।

এ ব্যাপারে সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম বলেন, সেপটিক ট্যাংকে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাসে তাদের মৃত্যু হতে পারে বলে ধারণা করছি। তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উভয়পক্ষের মধ্যে আপস মীমাংসা হয়েছে মর্মে তারা আমাদেরকে একটি লিখিত পত্র দিয়েছেন।