সোনাগাজী উপজেলার বগাদানা ইউনিয়নের গুনক গ্রামে রং মিস্ত্রি ও তাঁতিদল নেতা আইয়ুব নবী তারেক (২৬) হত্যার চার দিন পার হলেও এখনো কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এতে নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

গত বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) নিহতের বাবা কামাল উদ্দিন বাদী হয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় চারজনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার আসামিরা হলেন-অহিদুর রহমান (৫২) এবং তার তিন ছেলে মো. আবু সাঈদ (২৮), মো. নাহিদ (২৬) ও নিলয় (২০)। তারা সবাই বগাদানা ইউনিয়নের গুনক গ্রামের বাসিন্দা।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে পূর্ববিরোধের জেরে প্রতিবেশী অহিদুর রহমান ও তার ছেলেরা পরিকল্পিতভাবে তারেককে ডেকে নেয়। পরে অহিদুর রহমানের বাড়ির পাশের চলাচলের একটি রাস্তায় একা পেয়ে দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় উপর্যুপরি কোপ ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে তাকে হত্যা করা হয়।

এজাহারে নিহতের বাবা উল্লেখ করেন, তার ছেলে আইয়ুব নবী তারেক পেশায় রং মিস্ত্রি ছিলেন। তবে তিনি স্থানীয়ভাবে বগাদানা ইউনিয়ন তাঁতিদলের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবেও পরিচিত ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত নাহিদের স্ত্রীর সঙ্গে তারেকের সম্পর্ক রয়েছে। এমন গুঞ্জন কিছুদিন ধরে এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয় এবং সেই ঘটনার জের ধরেই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে নিহতের পরিবার এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে এবং ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে নিহতের মরদেহ দাফন করা হয়েছে।

এদিকে ঘটনার চার দিন পার হলেও মামলার কোনো আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় নিহতের স্বজনরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল ইসলাম বলেন, তারেক হত্যা মামলার আসামিরা ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।