সোনাগাজীতে পূর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে মৎস্য খামারি ব্যবসায়ী হাজী সিরাজুল হকের বাড়িতে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামে তার নতুন বসতবাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। অগ্নিকাণ্ডে তিন লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। ঘটনার পরদিন বুধবার জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা।

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ঘটনার সময় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দিলে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে রাত একটার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ ঘটনায় বুধবার (৪ মার্চ) সন্ধ্যায় হাজী সিরাজুল হকের স্ত্রী আনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ১০-১৫ জন অজ্ঞাতনামাকে আসামি করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগে বলা হয়, হাজী সিরাজুল হক মুহুরী প্রজেক্ট এলাকার একজন মৎস্য খামারি। গত ৭ ফেব্রুয়ারি তার স্ত্রী-সন্তানরা খামারের মালামাল আনতে গেলে প্রতিপক্ষের নেতৃত্বে ১৫-২০ জনের একটি দল তার ছেলে ফরহাদুল ইসলাম বিপ্লব ও রাকিবুল ইসলাম হৃদয়কে মারধর করে। এ সময় বিপ্লবের ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেলসহ খামারের বিভিন্ন মালামাল লুট করে নেওয়া হয়। এই ঘটনায় তাদের সাড়ে ৩ লাখ টাকা ক্ষতি হয়।

হাজী সিরাজের ছেলে বিপ্লব দাবি করেন, ওই ঘটনার পর বিষয়টি এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানানো হলে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাদের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা বসতঘরের পাশের টিনশেড রান্নাঘরে আগুন দেয় এবং বসতবাড়ির দরজা-জানালা ও আসবাবপত্র ভাংচুর করে জোরপূর্বক ঘরে প্রবেশ করে পরিবারের সদস্যদের মারধর করে।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সোনাগাজী মডেল থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল ইসলামের ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

থানার ওসি (তদন্ত) শফিকুর রহমান লিখিত অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আমরা ঘটনা তদন্ত করছি। আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।