সোনাগাজীতে আওয়ামী লীগের পোস্টার লাগানোর সন্দেহে আটক পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলমকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে হতাহতের ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করেছে পুলিশ। গত সোমবার (১৮ মে) রাতে উপজেলার সদর ইউনিয়নের চরখোয়াজ গ্রাম থেকে তাকে আটক করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত সপ্তাহে সোনাগাজী সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের পোস্টার লাগানোর ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের দাবি জানান। এরপর থেকেই পুলিশ অভিযানে নামে।

গত কয়েকদিনে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়েও কাউকে আটক করতে না পারলেও সোমবার রাতে মাহবুব আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া পোস্টার লাগানোর ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আরও কয়েকজনকে খুঁজছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

তবে মাহবুব আলমের পরিবারের সদস্যরা তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য নয় বলে দাবি করেন। তার স্ত্রী জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে মাহবুব এলাকায় অবস্থান করছেন এবং বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে হতাহতের ঘটনায় দায়ের হওয়া কোনো মামলায় তার নাম নেই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ছাত্রদল নেতা বলেন, আটকের পর মাহবুব আলমের স্ত্রী, ভাই ও শ্বশুরসহ স্বজনরা থানায় গেলে পুলিশ প্রথমে জানায় পোস্টার লাগানোর সন্দেহে তাকে আটক করা হয়েছে। পরে ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনায় তাকে শনাক্ত করা যায়নি বলে জানানো হয়। এরপর পুলিশ দাবি করে, অর্থ দিয়ে সহযোগিতার বিষয়ে তাদের কাছে তথ্য-প্রমাণ রয়েছে। পরে তাকে অন্য মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে বলে জানতে পেরেছি।

সোনাগাজী মডেল থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) শফিকুর রহমান জানান, আওয়ামী লীগের পোস্টার লাগানোর অভিযোগে সন্দেহভাজন হিসেবে মাহবুব আলমকে আটক করা হয়। পরে যাচাই-বাছাই শেষে ফেনীর মহিপালে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় হতাহত হওয়ার ঘটনায় করা মামলায় সংশ্লিষ্টতা থাকার সন্দেহে তাকে ফেনী মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়।

ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মোহাম্মদ ফৌজুল আজিম জানান, মাহবুব আলমকে মহিপালে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় হতাহতের ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।