দাগনভূঞা উপজেলায় মাঠজুড়ে এবার চোখে পড়ছে সরিষার হলুদের সমারোহ। আগাম জাতের সরিষার হলুদ ফুল মাঠের পর মাঠকে ঢেকে দিয়েছে। সরিষা ফুল প্রকৃতিতে যোগ করেছে এক অনন্য সৌন্দর্য। এই দৃশ্য শুধু পথচারীকে নয়, কৃষকের মনকেও উজ্জীবিত করছে। সরিষার সমারোহে খুশি কৃষকরাও। চলতি মৌসুমে কৃষকরা আগাম সরিষা চাষে ঝুঁকেছেন। কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে দাগনভূঞা উপজেলায় বিভিন্ন উন্নত জাতের সরিষার আবাদ করা হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, চলতি মৌসুমে সরিষা আবাদের লক্ষ্যমাত্র নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫২ হেক্টর। তবে পুরোপুরি আবাদ এখনও শুরু হয়নি। কিছু কিছু জায়গায় আবাদ শুরু হয়েছে। আগাম সরিষা আবাদে কৃষকদের আগ্রহ বেড়েছে। উপজেলার জায়লস্কর ইউনিয়নে সোনাপুর এলাকার কৃষক এতোয়ার হোসেন আকাশের আগাম সরিষার প্লটে। মাঠের পর মাঠজুড়ে কেবল হলুদ আর হলুদ। এখানকার উৎপাদিত সরিষা নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহ করা হয়ে থাকে। চলতি মৌসুমে আবাদ বৃদ্ধি ও অনুকূল আবহাওয়ার কারণে কৃষকরা ভালো ফলনের স্বপ্ন দেখছেন।
কৃষক এতোয়ার হোসেন আকাশ বলেন, এ বছর ৩ একর জমিতে বারি-১৪ জাতের আগাম সরিষা আবাদ করেছি। গত দেড় মাস আগে সরিষা রোপণ করেছি। আবহাওয়া যদি এভাবেই অনুকূলে থাকে, তাহলে ভালো ফলন পাওয়ার আশা করছি।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মোশাররফ হোসেন বলেন, সরিষা একটি স্বল্প খরচের লাভজনক ফসল। চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং কৃষকদের আগ্রহ বাড়ায় আগাম সরিষার আবাদ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলন ভালো হলে কৃষক আর্থিকভাবে লাভবান হবেন এবং ভোজ্যতেলের চাহিদা পূরণেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
উপ সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা লুৎফুল হায়দার ভূঁইয়া বলেন, সরিষার চাষে খরচ ও পরিশ্রম দুটোই কম হওয়ায় অনেক কৃষক এই ফসল চাষে ঝুঁকেছেন। সরিষা তোলার পর একই জমিতে বোরো আবাদ হচ্ছে। সরিষা বেলে, দো-আঁশ মাটিতে ভালো হয়। সরিষা চাষে প্রচুর রোদ, কম তাপমাত্রা ও জমিতে পর্যাপ্ত রস থাকা প্রয়োজন। তাপমাত্রা বেড়ে গেলে ও মাটিতে রসের অভাব হলে বীজের আকার ছোট হয় ও বীজে তেলের পরিমাণ কমে যায়। এ জন্য রবি মৌসুমেই সরিষার চাষ করা হয়ে থাকে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ কামরুজ্জামান বলেন, সরিষা চাষে কৃষকরা যেভাবে আগ্রহ দেখাচ্ছেন তা অত্যন্ত ইতিবাচক। এটি কৃষি ক্ষেত্রে সরকারের আরও একটি সাফল্য। দেশি জাতের সরিষার ৬০ থেকে ৭০ দিনে এবং উচ্চফলনশীল জাতের সরিষা উঠতে সময় লাগে ৭৫ থেকে ৮০ দিন। তিনি আরও বলেন, সরিষার আবাদ বৃদ্ধি হলে তেলজাতীয় ফসলের উৎপাদন বাড়বে এবং তেলের আমদানি নির্ভরতা কমে যাবে।
