প্রকৃতিতে শীতের প্রকোপ এবার কিছুটা কম থাকায় বেশ আগেভাগেই মুকুলে মুকুলে ছেয়ে গেছে দাগনভূঞা পৌর শহর থেকে শুরু করে গ্রামের বসতবাড়ির আঙ্গিনার আম গাছগুলোতে এমন সুন্দর দৃশ্য দেখা গেছে। থোকা থোকা মুকুলের ভারে ঝুলে পড়েছে আম গাছের ডালাপালা। আমের মুকুলের ঘ্রাণ বইছে পুরো উপজেলায়। চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে এই মুকুলের ঘ্রাণ। কোনো কোনো গাছে আমের মুকুল থেকে বেরিয়েছে ছোট ছোট আম গুটি। এবার কুয়াশা কম থাকায় মুকুল ভালোভাবে প্রস্ফুটিত হয়েছে। অধিকাংশ গাছই এরইমধ্যে মুকুলে ছেয়ে গেছে। বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে এর সুগন্ধ।

পৌর শহর থেকে গ্রামগঞ্জ সর্বত্র আমগাছ তার মুকুল নিয়ে হলদে রঙ ধারণ করে সেজেছে এক অপরূপ সাজে। গাছে গাছে অজস্র মুকুল দেখে খুশি এলাকার মানুষ। স্থানীয় বাসিন্দা রিপন মজুমদার জানান, প্রাকৃতিক কারণেই এবার আগেভাগেই আম গাছে মুকুল এসেছে। অনেকেই ধারণা করছে, আমের মুকুল আসার আগে-পরে যেমন আবহাওয়ার প্রয়োজন, এবছর তা বিরাজ করছে। ডিসেম্বরের শেষ থেকে মার্চ মাসে প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত আসার আদর্শ সময়। এ সময়ে মুকুলের প্রধান শত্রু কুয়াশা। এখন পর্যন্ত কুয়াশা কম এবং আকাশে উজ্জ্বল রোদ থাকায় আমের মুকুল সম্পূর্ণ প্রস্ফুটিত হচ্ছে।

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা এমদাদুল হক জানান, ছাত্রাক জনিত রোগেও আমের মুকুল, ফুল ও গুটি আক্রান্ত হতে পারে। এ জন্য কৃষকদের আম গাছে মুকুল আসার আগে এবং আমের গুটি হওয়ার পর নিয়মিত ছত্রাকনাশক স্প্রে করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ কামরুজ্জামান জানান, আমের প্রকৃত ফলন পেতে হলে অবশ্যই আমগাছে কমপক্ষে ২ বার ইমিডাক্লোরোপিড গ্রুপের কীটনাশক ও ম্যানকোজেব গ্রুপের ছত্রাকনাশক অনুমোদিত মাত্রায় স্প্রে করতে হবে। প্রথমবার আমের মুকুল আসার পর কিন্তু ফুল ফোটার আগে। দ্বিতীয়বার আমের সাইজ মটর দানার মত হলে। এ ব্যাপারে কৃষকদের পরামর্শ প্রদান কৃষি বিভাগ অব্যাহত রেখেছে।