দাগনভূঞা উপজেলায় অটোরিকশা চালক সমীর দাস (২৯) হত্যায় দুই মাস পর তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত সোমবার (৯ মার্চ) রাতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মেহেদী হাসান সুমন (২৩), আব্দুল্লাহ আহাদ (২৬) ও আলমগীর হোসেনকে (৩০) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরদিন দুপুরে গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফয়জুল আজীম। তিনি জানান, হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন গ্রেপ্তারকৃত আব্দুল আহাদ।

সুমন ফরিদপুর জেলার ভান্ডারিয়া উপজেলার শ্রীপুর শিকদার বাড়ির আলতাফ হোসেনের ছেলে। বর্তমানে নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ী উপজেলার কলোনিতে বসবাস করছে। আব্দুল্লাহ আহাদ বাগেরহাট জেলার মোড়লগঞ্জ উপজেলার বড়ই খালী এলাকার শিকদার বাড়ির লাভলু সরদারের ছেলে। বর্তমানে দাগনভূঞা উপজেলার সিন্দুরপুর ইউনিয়নের কৌশল্যা এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছে। আলমগীর হোসেন নোয়াখালী জেলার হাতিয়া পৌরসভার চরকৈলাশ এলাকার হুজুর আলী সওদাগর বাড়ির জামাল হোসেনের ছেলে। বর্তমানে বসবাস করছে ফেনী জেলার ছাগলনাইয়া উপজেলার বাশপাড়া।

এসব তথ্য নিশ্চিত করে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) কমল মালাকার জানান, দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফয়জুল আজীমের দিকনির্দেশনায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৩ জনকে গ্রেপ্তার পূর্বক আদালতে পাঠানো হয়েছে। তাদের কাছ থেকে নিহত সমীর দাসের অটোরিকশার বিভিন্ন যন্ত্রাংশ উদ্ধার করা হয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, আসামি আব্দুল্লাহ আহাদ ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালত দাগনভূঞাকে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন গ্রেপ্তারকৃত আব্দুল আহাদ।

উল্লেখ্য, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালক সমীর দাসকে গত রোববার (১০ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড দক্ষিণ করিমপুর বজু মুহুরী বাড়ি সংলগ্ন জমিতে কুপিয়ে হত্যার পর তার রিকশাটি ছিনতাই করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। খবর পেয়ে স্বজনরা রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। পরদিন ১১ জানুয়ারি এ ঘটনায় নিহতের পিতা কার্তিক দাস বাদি হয়ে দাগনভূঞা থানায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা করেন। নিহত সমীর দাসের ১৮ মাসের উদয় কুমার দাস নামের একমাত্র শিশু সন্তান রয়েছে।