দাগনভূঞা পৌর এলাকায় হত্যার পর সেফটিক ট্যাংকে মো. রাশেদ নামে এক যুবকের লাশ গুমের ঘটনায় করায় মামলায় ৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে। গতকাল সোমবার (১৩ এপ্রিল) ফেনীর সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোহাং কুতুব উদ্দিন সিরাজীর আদালতে তাদের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। 

রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর মো. মেজবাহ উদ্দীন খাঁন। তিনি জানান, সাক্ষ্যগ্রহণের সময় তিন আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এ মামলায় প্রধান আসামি স্বপন পলাতক রয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, এ মামলায় ২৫ জন সাক্ষীর মধ্যে বাদী মনোয়ারা বেগম ও জব্দ তালিকায় ৩জন সাক্ষীসহ ৭ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, নিহত রাশেদ দাগনভূঞা পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের বেতুয়া গ্রামের তারা মিয়া বাড়ির মোহাম্মদ মনির আহাম্মদরে বাড়িতে থেকে পাওয়ার টিলার চালাত। তার সহযোগি হিসেবে কাজ করত মো. স্বপন। গত ২০১৯ সালের ৯ সেপ্টেম্বর রাত থেকে নিখোঁজ হয় রাশেদ। এসময় স্বপনের মোবাইলও বন্ধ পাওয়ায় পরিবারের সন্দেহ হয়। পরে রাশেদের সন্ধানে স্বপনের বাড়িতে গেলে সে কোন তথ্য দিতে পারেনি, তার কথাবার্তায় পরিবারের সন্দেহ বাড়ে। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে রাশেদের সন্ধান না পেয়ে একই বছরের ১৩ সেপ্টেম্বর দাগনভূঞা থানায় সাধারণ ডায়রী করে পরিবার। পরে পুলিশের কাছ থেকে সহযোগিতা না পেয়ে ১৭ সেপ্টেম্বর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কাছে অভিযোগ করা হয়। পরের দিন পিবিআই পরিদর্শক মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে একটি দল মনির আহাম্মদের বাড়িতে তল্লাশী চালায়। এসময় মনির আহাম্মদের বাড়িতে রাশেদের ঘরের পেছনে সেফটিক ট্যাংকি থেকে পঁচা দুর্গন্ধ বের হলে পিবিআই’য়ের সন্দেহ হয়। দাগনভূঞা পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সহযোগিতায় সেফটিক ট্যাংকির ঢাকনা খুললে রাশেদের গলিত মরদেহ ভাসতে দেখা যায়। পরে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের মা মনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে দাগনভূঞা থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই পুলিশ পরিদর্শক মুহাম্মদ খায়রুল বশর দীর্ঘ সময় তদন্ত করে স্বপনসহ ৪জনকে অভিযুক্ত করে ২০২২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র প্রদান করেন। ২০২২ সালের ৩১ অক্টোবর আদালত চার্জ গঠন করে সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেন। মামলায় স্বপনসহ ৪জন আসামি উচ্চ আদালত থেকে জামিনে রয়েছে।