ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলায় কোরবানির পশুর চামড়ার ন্যায্যমূল্য না পেয়ে ছোট ফেনী নদীতে চামড়া ফেলে দিয়েছেন কয়েকজন মৌসুমি ব্যবসায়ী। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসে। পরে পরিবেশ দূষণের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যবসায়ীদের বাড়িতে যান দাগনভূঞা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহিদুল আলম। এ সময় ব্যবসায়ীরা নিজেদের ভুল স্বীকার করে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ক্ষমা চান।
শুক্রবার (২৯ মে) দুপুরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি দাগনভূঞার মাতুভূঞা এলাকার একটি সেতু থেকে ছোট ফেনী নদীতে গরুর চামড়া ফেলছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঈদের পর দুই দিন পার হলেও চামড়া বিক্রি করতে না পেরে এবং সংরক্ষণের অতিরিক্ত খরচ বহন করতে না পারায় কিছু মৌসুমি ব্যবসায়ী এসব চামড়া নদীতে ফেলে দেন।
ভিডিওটি প্রশাসনের নজরে আসার পর বিকেলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহিদুল আলম উপজেলার মোমারিজপুর গ্রামে গিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তিনি নদীতে চামড়া ফেলে পরিবেশ দূষণের কারণ জানতে চাইলে ব্যবসায়ীরা নিজেদের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। পরে ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকার জন্য তাদের সতর্ক করা হয়।
অভিযুক্ত চামড়া ব্যবসায়ী খুরশিদ আলম বলেন, “আমরা না বুঝে নদীতে চামড়া ফেলেছি। এটি যে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর, তা বুঝতে পারিনি। এমন ভুল আর কখনও করব না।”
দাগনভূঞা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহিদুল আলম বলেন, “অভিযুক্তরা নিঃশর্তভাবে ক্ষমা চেয়েছেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ করবেন না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। মূলত লোকসানের কারণেই তারা এমন কাজ করেছেন। তারা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে আমরা সহযোগিতা করতে পারতাম।”
