'আম্পান' ডাবল আঘাত হানতে পারে বাংলাদেশে


দেশের উপকূলে আঘাত হেনে বড় রকম ক্ষতির দিন কয়েক পর উত্তরাঞ্চলে প্রবল বন্যার সৃষ্টি করতে পারে সুপার সাইক্লোন 'আম্পান'।


আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট সুপার সাইক্লোন বা অতি ঘুর্ণিঝড় 'আম্পান' বাংলাদেশ আঘাত হানতে পারে বুধবার সন্ধ্যা নাগাদ।


একই সূত্র বলছে, বাংলাদেশ ও ভারত সীমান্তের সুন্দরবন অংশে ঘূর্ণিঝড়টির মূল অংশ আঘাত হানতে পারে কিন্তু এর প্রভাব পড়বে চারদিকেই। তবে এখনো বাংলাদেশ উপকূল হতে যথেষ্ট দুরে থাকায় যেকোনো পরিবর্তন ঘটতে পারে।


আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, উপকূলে আঘাত হেনে ঝড়টি হিমালয়ের উচ্চ পর্বতশ্রেণীতে গিয়ে আরো ঘণীভূত হবে। ফলে, পূর্ব হিমালয় পর্বতমালায় প্রবল বর্ষণের সৃষ্টি করবে।
এতে বলা হয়, উত্তর-পূর্ব ভারত, ভুটান এবং উত্তর বাংলাদেশ জুড়ে উল্লেখযোগ্য হারে বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে এবং পূর্ব হিমালয় ও গারো-খাসি এলাকায় ভূমিধসের আশংকা রয়েছে।


মার্কিন যৌথ টাইফুন সতর্কতা কেন্দ্রের বরাত দিয়ে আজ সকালে সিএনএন জানিয়েছে, আম্পান বঙ্গোপসাগরে এ যাবত কাল পর্যন্ত রেকর্ডকৃত ঝড়গুলোর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ঝড় হয়ে উঠেছে, এটি ঘণ্টায় ২৭০ কিলোমিটার পর্যন্ত (ঘণ্টায় ১৬৫ মাইল) অব্যাহত বাতাসের গতিবেগের সঙ্গে তীব্রতর হচ্ছে।


আবহাওয়া অধিদপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, স্থলভাগে আঘাত হানার সময় আম্পান পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশ জুড়ে জীবন ও সম্পদের জন্য চরম হুমকি হয়ে উঠবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে- যাতে যুক্ত হতে পারে ভয়ঙ্কর উপকূলীয় ঝড়, ভারী বর্ষণ ও জলোচ্ছ্বাস।


তবে এখনো ফেনী উপকূলে তেমন কোনো প্রভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে না বলে জানান স্থানীয় প্রবীণ জেলে মনমোহন জলদাস।


বৈশ্বিক ঝড় নির্ণয়ক বিখ্যাত সংস্থা আকুওয়েদারের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যদিও ধারণা করেছিল যে, ঝড়টি তটভূমিতে আঘাত হানার আগে সামান্য দুর্বল হয়ে পড়বে। কিন্তু ‘ঘূর্ণিঝড়টি এখনও একটি বিপজ্জনক ঝড় হয়েই আছে’।


আকুওয়েদারের সিনিয়র আবহাওয়াবিদ অ্যাডাম ডাউটি মন্তব্য করেন, ‘বাংলাদেশের দক্ষিণে এবং দক্ষিণ-পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে বিশাল নিম্নচাপের কারণে উপকূলীয় এলাকা প্লাবিত হওয়ার যথেষ্ট উদ্বেগ রয়েছে, কারণ বঙ্গোপসাগরের উপকূলে ঝড়ো হাওয়া জলোচ্ছ্বাসকে প্রবাহিত করবে।’


আবহাওয়াবিদরা আশংকা করেছেন, অমাবস্যার প্রভাবের কারণে আম্পান ঘূর্ণিঝড়টি বাড়তি শক্তি সঞ্চয় করে বিশেষত, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল এবং চট্টগ্রামের মধ্য উপকূলের অঞ্চলগুলো পর্যন্ত বিস্তৃত হয়ে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে বেশি প্লাবিত হতে পারে।


সূত্র: বাসস, বিবিসি বাংলা

ছবিঃ ইন্টারনেট

মন্তব্যসমূহ

আপনার মূল্যবান মতামত প্রদান করুন

    কোনো মন্তব্য খুঁজে পাওয়া যায় নি

মন্তব্য করুন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশিত হবে না।